উত্তরবঙ্গ

গরুমারাতে শুরু হচ্ছে সাধারণ পর্যটকদের জন্য হাতি সাফারি। দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হল পর্যটন মহলের।

জলপাইগুড়ি, ২০ নভেম্বরঃ দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হল পর্যটক এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের। অবশেষে বনদপ্তরের রিসর্টে না থাকলেও, গরুমারায় হাতির পীঠে চেপে জাঙ্গল সাফারি করার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকেরা। লাটাগুড়ি রিসর্ট অনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি মূর্তির পর্যটন ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছিলেন। অবশেষে দীর্ঘদিনের পুরোনো সেই দাবি পূরণ করতে চলেছে বন দপ্তর।

আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে গরুমারাতে চালু হতে চলেছে হাতির পীঠে চেপে সর্বসাধারণের জন্য জাঙ্গল সাফারি। তবে, গড় পড়তায় যে পরিমাণ পর্যটক গরুমারা অভয়ারণ্যকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সে ঘুরতে আসেন, সেই তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হাতির পীঠে চেপে এই জাঙ্গল সাফারির সংখ্যা। প্রতিদিন সকাল বিকেল মিলে বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট, হোম স্টে-তে থাকা মাত্র ১৬ জন পর্যটক হাতির পীঠে চড়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে লাটাগুড়ি সংলগ্ন ধুপঝোড়া থেকে ৮ জন এবং রামসাই সংলগ্ন কালীপুর থেকে ৮ জন পর্যটক প্রতিদিন হাতির পীঠে উঠতে পারবেন। ধুপঝোড়া থেকে সকাল ৮ টায় শুরু হয়ে সকাল ৯ টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৩ টা ৩০ থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪ টা ৩০ পর্যন্ত এই হাতি সাফারি হবে। অন্যদিকে, কালীপুর থেকে প্রথম ব্যাচের পর্যটকেরা সকাল ৭ টা থেকে ৮ টা এবং দ্বিতীয় ব্যাচের পর্যটকেরা সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা হাতি সাফারি করতে পারবেন। হাতি সাফারির জন্য আগের দিন বিকেল ৫ টায় সরাসরি ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ পদ্ধতিতে পর্যটকদের টিকিট দেওয়া হবে। এন্ট্রি ফি বাবদ জন প্রতি ১২০ টাকা এবং হাতি সাফারি বাবদ জন প্রতি ৯০০ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন পর্যটক হাতি সাফারি করতে চাইলে তাঁকে ১০২০ টাকা খরচ করতে হবে।

এর আগে, গরুমারা জঙ্গল সংলগ্ন বন দপ্তরের তিনটি বন বাংলো বুক করলেই শুধুমাত্র এই হাতি সাফারির সুযোগ পাওয়া যেত। এতদিন গাছবাড়ি, কালীপুর এবং রাইনো এই তিনটি বনবাংলোতে যে সমস্ত পর্যটকেরা বুক করতেন তারাই একমাত্র গরুমারায় হাতি সাফারি করতে পারতেন। কোভিড আবহে সেই হাতি সাফারিও বন্ধ হয়ে যায়। এবার ২৩ নভেম্বর থেকে বনবাংলোতে রাত্রিবাস করা পর্যটকদের পাশাপাশি, বাইরের পর্যটকেরাও হাতি সাফারির সুযোগ পাওয়ায়, পর্যটন মানচিত্রে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি, মূর্তি, চালসা, রমাসাই-এর মত পর্যটন কেন্দ্রগুলির গুরুত্ব একধাপে অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করছে পর্যটন মহল।