উত্তরবঙ্গ

জমিদারবাড়ির পূজার দায়িত্ব এখন এলাকার ক্লাবের কাঁধে। মালদার বুলবুলচন্ডীর মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়ালের এবারের ভাবনা লোকশিল্পে দুর্গতিনাশিনী।

মালদা, ১০ অক্টোবরঃ এক সময় হবিবপুর ব্লক জুড়েই ছিল জমিদারি। কালক্রমে অংশীদারিত্ব ইস্যুতে বুলবুলচন্ডীতে সীমিত হয়ে যায় জমিদারি। তারপর থেকে প্রজাদের মঙ্গল কামনায় শুরু করেন মাতৃ আরাধনা। শুরু হয় বুলবুলচন্ডীর জমিদারবাড়ির দুর্গা পূজা। এখন জমিদার বংশের কয়েকজন জীবিত থাকলেও, নেই সেই জমিদারি, নেই সেই আর্থিক ক্ষমতাও। কিন্তু একবারের জন্যও বন্ধ হয়নি জমিদারবাড়ির দুর্গা পূজা। জমিদার বাড়ির দুর্গা পূজার দায়িত্ব এখন দশের কাঁধে। শতাব্দী প্রাচীন জমিদারবাড়ির দুর্গাপূজা এখন পরিচালনা করছে বুলবুলচন্ডী মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাব।

এবারে ৫৮ তম বর্ষে পদার্পন করলো মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাবের দূর্গাপূজা। মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়ালের এবারের ভাবনা লোকশিল্পে মা দুর্গতিনাশিনী। মালদার বুলবুলচন্ডী মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাবের দুর্গাপূজা মন্ডপের এবারে থিমে স্থান পেয়েছে হরপ্পা এবং মহেঞ্জদাড়ো আমলের ডোকরা শিল্প। ডোকরা শিল্পের সঙ্গে ওয়াল পেইন্টিং এর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে মন্ডপ সজ্জা। পঞ্চমীর সকালেও মন্ডপ সজ্জার কাজ অনেকাংশে বাঁকি থাকলেও, এখন থেকেই স্থানীয়রা ভিড় জমাচ্ছেন বুলবুলচন্ডী মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাবের দুর্গাপূজা মন্ডপে। এবারের পূজার থিম দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশাবাদী ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুঞ্জয় ক্লাবের এবারের বাজেট প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বলে জানান ক্লাবের সদস্যরা।

পূজা কমিটির সভাপতি মধু সিংহ জানান, এই পূজা বুলবুলচন্ডীর জমিদাররা করতেন। জমিদারি প্রথা চলে যাওয়ার পর, ক্লাবের সদস্যরাই এই পূজার দায়িত্ব নেন। সেই থেকে ক্লাব কমিটি এই পূজা করে আসছে। অন্যদিকে, মৃত্যুঞ্জয় ক্লাবের পূজা পরিচালনায় যারপর নাই খুশী বুলবুলচন্ডীর জমিদারবাড়ির বর্তমান প্রজন্ম।