উত্তরবঙ্গ

ছোট্ট ছোট্ট হাতে একটু একটু করে প্রাণ পেল দশভূজা। দশ বছরের তন্ময় গড়ে তুললো মাতৃ প্রতিমা।

উত্তর দিনাজপুর, ১০ অক্টোবরঃ পড়াশুনার পাশাপাশি ছোট্ট তন্ময়-এর ছোট্ট ছোট্ট হাতে একটু একটু করে প্রাণ পেল দশভূজা দুর্গা। যখন সমস্ত শিশুরা পূজার কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের দুর্লভপুর অঞ্চলের পার্ব্বতীপুর গ্রামে তার বানানো দুর্গা মূর্তিতে ফিনিসিং টাচ দিচ্ছে, বছর দশেকের তন্ময়। চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত ছোট্ট তন্ময়, মুকুল রায় ও মঞ্জুরি রায়-এর এক মাত্র পুত্র। দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল বন্ধ থাকায়, বাড়িতেই পড়াশুনার পর ফাঁকা সময়ে সে বসে পরে খড় কুটো, পেঁড়েক, কাঠামো ও মাটি জোগার করে দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী সহ নানান ঠাকুর দেবতার প্রতিমা গড়তে। শুধু পার্ব্বতীপুর নয়, আশপাশের গ্রামেও কান পাতলে শোনা যায় খুদে তন্ময়ের অবাক করা মাটির মূর্তি গড়ার প্রতিভার কথা।

গ্রামের পাকা রাস্তার ধারে তার বাড়ির বারান্দায় মন চাইলেই মূর্তি গড়তে বসে পরে তন্ময়। স্কুলের দুই বন্ধু রতন ও অমিত তার দুই যোগানদার। দুই বন্ধুকে সঙ্গী করেই মাটির ছোট ছোট রঙ বেরঙের মূর্তি গড়ার কাজ চলে তন্ময়ের। কখনো কখনো কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করতে বারান্দায় পিঠ ঠেকিয়ে নাতির এই প্রতিভা তার পাশে বসে দুই চোখ ভরে দেখেন দাদু সাধু চরণ রায়। তার মুখ থেকেই শোনা গেলো যে, ৪ বছর বয়স থেকেই তন্ময় আঁকিবুকি করতে ভালোবাসতো। দিন যত গিয়েছে, তন্ময় যত বুঝতে শিখেছে, তখন থেকে তার এই মাটির প্রতিমা গড়ার অবাক করা প্রতিভার কথাও বেশী করে জানতে পেরেছে তার পরিবার সহ এলাকার মানুষেরা। এখন সে মোটামুটি পাকা কারিগর। অনেকে তার এই মূর্তি অর্থের বিনিময়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে, তন্ময় তাদের হাতে তার বানানো মূর্তি ভালোবেসে তুলে দেয়।

অন্যদিকে, যেখানেই তন্ময় মূর্তি গড়ার কথা জানতে পারে, সেখানে গিয়েই কিছুক্ষণ দেখে বাড়ি ফিরে এসে নিজেই সেই মূর্তি গড়তে শুরু করে। আর দুই এক দিন রেখে বাড়ির পাশের পুকুরে ভাসিয়েও দেয় সেই মূর্তি। কখনও কখনও অভিজ্ঞ শিল্পীদেরও ভুল ধরে সে। এই কাজ কেউ শিখিয়েও দেয় নি তাকে। স্বপ্রতিভাতেই মূর্তি গড়ার কাজে এগিয়ে চলেছে তন্ময়।

তার এই শিল্প কার্যের মনোভাবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন তার মা বাবা থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশীরা। তাদের কথায় ছেলে মাটির মূর্তি বানাতে খুব ভালোবাসে। বড় হয়ে বড় শিল্পী হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, সবাই চায়, মূর্তি বানানোর কাজ নিজের মত করে চালিয়ে যাক তন্ময়। অন্যদিকে, তন্ময়ের ইচ্ছে, কোন দিন তার গড়া প্রতিমা দিয়েই পূজা হবে শহরের বড় বড় পুজা মন্ডপ বা মন্দিরে।