উত্তরবঙ্গ

“পুজোয় চাই নতুন জামা” ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, হাসি ফোটালো চা-বাগানের শতাধিক শিশুর মুখে।

শিলিগুড়ি, ১০ অক্টোবরঃ সারা বছর ধরে ঝড়-জলে ওঁরা কাজ করেন চা-বাগানে। আর ওঁদের তৈরি চায়ে চুমুক দিয়েই ঘরে বসে আমেজ নেই আমরা। আমাদের মত ওঁদেরও পূজা আসে। কিন্তু ওঁদের পূজাটা একটু ভিন্ন রকম। শহুরে মানুষেরা পূজার দিনগুলিতে স্টাইল সেগমেন্ট অনুযায়ী নতুন জামা কাপড় পড়লেও, ওঁদের অনেকেরই পু্রোনো জামা-কাপড় পড়েই কেটে যায় পূজার দিনগুলি। চা-বাগানের যা বোনাস জোটে, সারা বছর ধরে নেওয়া ধার শোধ করতেই তা শেষ হয়ে যায় অনেকেরই। পূজায় নতুন জামা কাপড় তাঁদের কাছে অলীক কল্পনা।

পূজার মুখে চা বাগানের এমনই অভাবক্লিষ্ট, শীর্ণদেহী মানুষগুলির মুখে হাসি ফোটাতে প্রত্যন্ত চা-বাগানে পৌঁছে গিয়েছিল শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। সংগঠনের নবীন-প্রবীনদের সম্মিলিত একটি প্রতিনিধি দল রবিবার পৌঁছে গিয়েছিলেন দার্জিলিং জেলার এক প্রত্যন্ত চা বাগানে। খড়িবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত শচীন্দ্র চন্দ্র চা বাগানের ডিপা লাইনে মূলতঃ আদিবাসী শ্রমিক পরিবারগুলির বাস। বাঁশবাগানের ঘেরাটোপে ভগ্নপ্রায় ঘরগুলিতে ঠাসাঠাসি করে জীবন গুজরান করেন এই দরিদ্র শ্রমজীবি চা শ্রমিকরা। ন্যূনতম মজুরির অভাবে, পরিমিত খাবারের অভাবে পরিবারের শিশুরা বয়স অনুযায়ী শীর্ণকায়, ম্লানমুখ।

রবিবার শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের এই বস্ত্র বিতরণ শিবিরে এসে হাতে হাতে নতুন জামা পেয়ে হাসি ফুটেছে ওদের ম্লান মুখগুলিতে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি, প্রাপ্তবয়স্ক চা-শ্রমিকদের অনেকেই হাতে পেয়েছেন একেবারে ব্রান্ড নিউ জামা, প্যান্ট। মেয়েদের জন্য ছিল সালোয়ার-কামিজ এবং অল্প কিছু শাড়ী। শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের এই সফল উদ্যোগের জন্য আপামর জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের সম্পাদক জ্যোতির্ময় পাল সহ অন্যান্যরা।

শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের “পুজোয় চাই নতুন জামা” নামক ডিজিটাল ক্যাম্পেইন-ই তাঁদের এই উদ্যোগকে অনেকটাই সাফল্যমন্ডিত করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সদস্যরা। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখে, খুব অল্প দিনের মধ্যে শহর শিলিগুড়ির মানুষরা যেভাবে এগিয়ে এসে চা-বাগানের এই মানুষগুলির মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাতেই এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক জ্যোতির্ময় পাল।